The Ballpen
শালিখা উপজেলায় ভাষা ও সংষ্কৃতি - theballpen

শালিখা উপজেলায় ভাষা ও সংষ্কৃতি

21st Dec 2022 | মাগুরা জেলা |

ভাষা

ভাষা বিচারে উপভাষাকে আঞ্চলিক ভাষা বলা হয়। একটি নির্দিষ্ট ভাষার মূলরূপ থেকেই বিচ্ছিন্ন ভাষাই হচ্ছে আঞ্চলিক ভাষা বা উপভাষা। ভাষা বিজ্ঞানে শব্দতত্ত্ব, ধ্বনিতত্ত্ব এবং রূপতত্ত্ব তিনটি ক্ষেত্রেই এ বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়। সাহিত্যের সৌখিন ভাষার যেমন নিজস্ব শব্দ তত্ত্ব ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্ব আছে। তেমনি আঞ্চলিক ভাষার বা উপভাষার আছে নিজস্ব শব্দ, ধ্বনি ও রূপ সম্পদ। আঞ্চলিক ভাষা নতুন ভাষা নয়। ভৌগোলিক সীমারেখার মাঝেই আঞ্চলিক রূপে প্রতিভূত। আর মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার  ভাষায় এর ব্যতিক্রমধর্মী নয়।

বাংলাদেশের সব জেলার আঞ্চলিক ভাষার মতই মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার ভাষায়ও অঞ্চল ভেদে তারতম্য লক্ষ করা যায়।১৯৬৫ সালে বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে’ গ্রিয়ার্সন কর্তৃক সংগৃহীত ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যশোরের আঞ্চলিক ভাষার এ অঞ্চলের ভাষার কথা উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরুপ " বিষয় আশায় যা ছেলো তা তার ছাওয়ালগের ভাগ করে দেলো।’’ এ কথাই আবার মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার পশ্চিম অংশের অনেক গ্রামের লোকে এ কথা এভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,   ‘‘ এক যোনের দুডো সাওয়াল ছিল তাগের মদদি ছোট যোন তার বাপেরে কলো বাপ যুমাযুমির ভাগ যা আমি পাই তা আমারে দ্যাও। তাহন তার বাপ তার বিত্তি ব্যাশাত যা চিল তা তার সাওয়ালগের ভাগ করে দিলো।’’ এটা বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায়, বক্তব্য বচনভঙ্গির উচ্চারণ ও ধ্বনিগত পার্থক্য রয়েছে।

যেমন দুট-দুডে দুডো ও কলে-কলো-কালে ইত্যাদি। মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার উপভাষা শ্রেণি ভেদে পূর্ব দেশী বিভাগের একটি পূর্ব কেন্দ্রিক প্রশাখা। বৃহত্তর যশোর, খুলনা ও ফরিদপুর এর (দক্ষিণ পূর্বাশৎ ব্যতীত) কথ্য ভাষাকে পূর্ব দেশী শাখার একটি প্রধান শাখারূপে নির্দেশ করে। এছাড়া এ উপজেলার উপভাষার শব্দে অন্ত ব্যতীত সর্বত্র মহাপ্রাণ ধ্বনি রক্ষিত। কালের বিবর্তনে আঞ্চলিক ভাষা পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। নিম্নে কিছু আঞ্চলিক ভাষা দেয়া হলো যে গুলোর অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্তির পথে।

সংস্কৃতি

শালিখা উপজেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ইতিহাস নির্মাণে প্রথমেই মনে রাখতে হবে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি-সংস্কৃতির ইতিহাসে শালিখার অবদান যথেষ্ট গৌরবোজ্জ্বল, যা অধিকতর গুরুত্বের ইঙ্গিতবহ। শালিখাতেও এমন কিছু কবি সাহিত্যিক ও শিল্পী জন্ম গ্রহণ করেছেন তারা সত্যিই প্রাতঃস্মরণীয়। যাঁদের সাধনার ফসল ঘরে তুলে মাগুরা আজও কীর্তিমান।

শালিখার লোকসঙ্গীতের ইতিহাসে মাইন্দ্রনাথ (গোস্বামী মেহিন্দির গোঁসাই) অন্যতম শ্রেষ্ঠ। জাতীয় পর্যায়ে তিনি ছিলেন সমাদৃত। ঢাকা বেতার কেন্দ্র কর্তৃক লোকসঙ্গীত সম্মেলনে তিনি শালিখার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। অশ্বিনী বাবু ও অনিল হাজারিকা তার প্রিয় শিষ্য । শালিখার সঙ্গীত চর্চার ইতিহাসে জমিদারী আমল একটি গৌরবময় ভূমিকা পালন করে এসেছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গীত চর্চা শুরু হয়েছে ষাটের দশকের প্রায় মাঝামাঝি সময় থেকে।

শালিখা উপজেলায় বেশ কিছু সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।উদীচী,বান্ধন,যাত্রানট এই সকল প্রতিষ্ঠান গুলোতেও সঙ্গীত ও অন্যান্য সংস্কৃতি চর্চা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও শালিখাতে অনেক সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ও তাদের পরিবার পরিজনবর্গ সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন যা শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয়।

 

 





Related

মাগুরা জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত

মাগুরা জেলা রসমালাই ও মধুমতি নদীর জন্য বিখ্যাত।



Related

মাগুরা জেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে কত সালে?

১৮৪৫ সালে মাগুরা মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলেও মাগুরা সদরে থানা স্থাপিত হয় আরও অনেক পরে, ১৮৭৫ সালের ১৬ নভেম্বর । অবশ্য এর আগে ১৮৬৭ সালে শালিখা, ১৮৭৯ সালের ২৮ শে জানুয়ারি শ্রীপুর এবং ১৮৬৯ সালের ২৪ নভেম্বরমহম্মদপুর থানা স্থাপিত হয়। এই চারটি থানা নিয়ে প্রায় ১৪০ বছর মাগুরা যশোর জেলার মহকুমা হিসেবে বজায় থাকে।



Related

মাগুরা জেলা কবে শত্রুমুক্ত হয়?

মাগুরা, ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ (বাসস) : মাগুরা মুক্ত দিবস আগামীকাল ৭ ডিসেম্বর।। ১৯৭১ সালের এ দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার মুক্ত হয় মাগুরা।



Related

মাগুরার জেলার বিখ্যাত খাবার

মাগুরা রসমালাই এর জন্য বিখ্যাত। যদিও রসমালাই মাগুরার বিখ্যাত খাবার কিভাবে হলো বা এর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়না। মাগুরার বিখ্যাত খাবার যদিও রসমালাই তবুও অণ্যান্য বিভিন্ন খাবারের সুনাম রয়েছে। তবে লোকমুখে বেশি শুনা যায় মাগুরার জেলার বিখ্যাত খাবারের নাম রসমালাই।



Related

মাগুরা জেলার ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে এক সমৃদ্ধ জনপদের নাম মাগুরা। ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ আমলে বাংলা প্রদেশের প্রথম গঠিত জেলা যশোর। কিন্তু একজন জেলা কর্মকর্তার পক্ষে এ বৃহৎ জেলার আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মুলত মগ জলদস্যুদের হাত থেকে এ জেলার উত্তরাঞ্চলের জন সাধারণকে রক্ষা করার জন্যই ১৮৪৫ সালে যশোর জেলার প্রথম মহকুমা করা হয় মাগুরাকে। মহকুমা গঠন করার পর প্রথম মহকুমা অফিসার হিসেবে আসেন মিঃ ককবার্গ। মহকুমা হবার আগে মাগুরা অঞ্চল ভূষণা ও মহম্মদপুর নামেই সুবিখ্যাত ছিল। পাল রাজত্বের সময় এ অঞ্চলের উত্তর ও উত্তর পূর্ব অংশ শ্রীপুর ও রাজাপুর নামে পরিচিত ছিলো।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব অংশ ভূষনা। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হবার পর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসাবে মাগুরাকে ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত করা হয়। প্রথম ডেপুটি কমিশনার নিয়োগ করা হয় অরবিন্দু করকে। মাগুরা জেলা মোট ৪টি থানা নিয়ে গঠিত। যথা মাগুরা সদর , শ্রীপুর , শালিখা, ও মহম্মদপুর যা ২টি সংসদীয় যথা মাগুরা-১ (জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা) ও মাগুরা-২ (জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকা) নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত।